১৫ জানুয়ারী ২০২৬ - ১৩:২১
ইমাম মূসা কাযিম (আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকী

২৫শে রজব ইমামত ও বেলায়াতের সপ্তম উজ্জল নক্ষত্র ইমাম মুসা ইবনে জাফর আল-কাযিম (আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকী।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ১৮৩ হিজরির ২৫শে রজব বাগদাদে ৫৫ বছর বয়সে তদানীন্তন শাসক হারুনুর রশীদের এক চক্রান্তমূলক বিষপ্রয়োগে ইমাম মূসা ইবনে কাযিম (আ.) শাহাদাত বরণ করেন।




বাগদাদের কাযেমাইন শহরে ইমামের পবিত্র মাজার অবস্থিত। ষষ্ঠ ইমাম জাফর আস-সাদিক (আ.) ছিলেন তাঁর পিতা এবং হামিদা খাতুন ছিলেন তাঁর মাতা। ১২৮ হিজরির ৭ সফর রবিবার মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী স্থান আবওয়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।


ইমাম মূসা কাযিমের পবিত্র জীবনের প্রথম বিশ বছর অতিবাহিত হয় তাঁর মহান পিতার পবিত্র ও আন্তরিক পৃষ্ঠপোষকতায়। পিতা ইমাম জাফর আস-সাদিক (আ.)-এর কাছে থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত প্রতিভা ও আলোকোজ্জ্বল দিকনির্দেশনা ও শিক্ষায় তাঁর ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয়। ছেলেবেলা থেকেই তিনি খোদায়ী জ্ঞানে সমৃদ্ধি অর্জন করেন।

ইমাম মূসা আল-কাযিমের জীবন অতিবাহিত হয় আব্বাসী শাসনের ক্রান্তিকালে। তিনি একাধারে আল-মনসুর আদ-দাওয়ানিকি, আল-মাহদী ও হারুনুর রশীদের শাসনকাল প্রত্যক্ষ করেছেন। আল-মনসুর ও হারুনুর রশীদ মহানবী (সা.)-এর বহু ভক্ত অনুসারীকে তরবারির নিচে স্থান দেয়।

ইমামের জীবনকালেই বহু লোককে জীবন্ত কবর দিয়ে শহীদ করা হয় এবং অনেককে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আবদ্ধ করা হয়। ১৬৪ হিজরিতে আল-মনসুরের পুত্র আল-মাহদী শাসক হিসাবে একবার মদীনায় আসে এবং ইমাম মূসা আল-কাযিমের ব্যাপক সুনাম ও সুখ্যাতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁকে বাগদাদে নিয়ে যায় এবং কারাগারে নিক্ষেপ করে। এক বছর পর ইমামকে মুক্তি দেয়।

ইমাম কাযিম (আ.)-এর শাহাদাত

১৭৯ হিজরিতে হারুনুর রশীদ মদীনা সফরে এসে মদীনার জনসাধারণের মধ্যে এই মহান ইমামের বিরাট প্রভাব ও বিপুল জনপ্রিয়তা দেখে হিংসা ও শত্রুতার আগুনে জ্বলে ওঠে। মসজিদে নবীতে নামাযরত অবস্থায় ইমামকে সে গ্রেফতার করে বাগদাদের কারাগারে নিয়ে চার বছর পর্যন্ত আটক করে রাখে।

ইমাম (আ.)-এর সমর্থক ও প্রেমিকদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায়, হারুন ইমাম মুসা কাযিম (আ.)-কে বন্দী করে এবং ইমামের অনুসারীদের কারণে তাকে এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে নিয়ে পাঠাতো, যা ইমামকে ক্রমশ কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলতো।

১৮৩ হিজরির ২৫ রজব বিষ প্রয়োগ তাঁকে শহীদ করা হয়। তাঁর লাশের সাথেও মানবিক আচরণ করা হয়নি। কারাগার থেকে বের করে তাঁর পবিত্র মৃতদেহ বাগদাদ সেতুর উপর ফেলে রাখা হয়। ইমামের ভক্ত ও অনুসারীরা তাঁর দেহ সেখানে থেকে নিয়ে গিয়ে ইরাকের কাযিমিয়াতে দাফন করেন।

যদিও ইমাম (আ.) জীবনের বহু বছর কারাগারে কাটিয়েছিলেন, তবুও তিনি কারাগারের ভেতর থেকেই তাঁর অনুসারী ও মুমিনদের কাছে তাঁর বার্তা পাঠাতেন। এই বছরগুলিতে, তিনি অনেক ছাত্রকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। ছাত্র, যাদের প্রত্যেকই আজ ইসলামী বিশ্বের মহান আলেম এবং ব্যক্তিত্বদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়; ইবনে আবি উমাইর, সাফওয়ান বিন ইয়াহিয়া, আলী বিন ইয়াকতিন, সাফওয়ান বিন মেহরান এবং

হারুন, যখন দেখল যে ইমামকে বন্দী করেও সে তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি, তখন তার একজন প্রতারিত জেলরক্ষককে ইমাম মুসা কাযিম (আ.)-কে বিষ প্রয়োগের নির্দেশ দেয়।

অবশেষে, ইমাম কাযিম (আ.) কে ১৮৩ হিজরির ২৫শে রজব বাগদাদের একটি কারাগারে বিষ প্রয়োগে শহীদ করা হয়। তাঁর পবিত্র দেহ তাঁর অনুসারীরা ইরাকের কাযেমাইন শহরে দাফন করে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha